Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সলাহঃ ঐ ব্যক্তির বর্ণনা যে সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাত পেল

 باب مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ الْغُرُوبِ

 
পরিচ্ছেদ: ঐ ব্যক্তির বর্ণনা যে সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাত পেল

حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِذَا أَدْرَكَ أَحَدُكُمْ سَجْدَةً مِنْ صَلاَةِ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَلْيُتِمَّ صَلاَتَهُ، وَإِذَا أَدْرَكَ سَجْدَةً مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَلْيُتِمَّ صَلاَتَهُ ‏"‏‏.‏

 
অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেন, তোমাদের কেউ যদি সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে আসরের নামাজের একটি সিজদাও পায়, তাহলে তার উচিত নামাজ পূর্ণ করা। আবার অনুরূপভাবেই কেউ যদি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের নামাজের একটি সিজদাও পায়, তাহলে তার উচিত নামাজ পূর্ণ করা।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য إِذَا أَدْرَكَ أَحَدُكُمْ سَجْدَةً مِنْ صَلاَةِ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ   -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৯, ৮২, পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

 حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ إِنَّمَا بَقَاؤُكُمْ فِيمَا سَلَفَ قَبْلَكُمْ مِنَ الأُمَمِ كَمَا بَيْنَ صَلاَةِ الْعَصْرِ إِلَى غُرُوبِ الشَّمْسِ، أُوتِيَ أَهْلُ التَّوْرَاةِ التَّوْرَاةَ فَعَمِلُوا حَتَّى إِذَا انْتَصَفَ النَّهَارُ عَجَزُوا، فَأُعْطُوا قِيرَاطًا قِيرَاطًا، ثُمَّ أُوتِيَ أَهْلُ الإِنْجِيلِ الإِنْجِيلَ فَعَمِلُوا إِلَى صَلاَةِ الْعَصْرِ، ثُمَّ عَجَزُوا، فَأُعْطُوا قِيرَاطًا قِيرَاطًا، ثُمَّ أُوتِينَا الْقُرْآنَ فَعَمِلْنَا إِلَى غُرُوبِ الشَّمْسِ، فَأُعْطِينَا قِيرَاطَيْنِ قِيرَاطَيْنِ، فَقَالَ أَهْلُ الْكِتَابَيْنِ أَىْ رَبَّنَا أَعْطَيْتَ هَؤُلاَءِ قِيرَاطَيْنِ قِيرَاطَيْنِ، وَأَعْطَيْتَنَا قِيرَاطًا قِيرَاطًا، وَنَحْنُ كُنَّا أَكْثَرَ عَمَلاً، قَالَ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَلْ ظَلَمْتُكُمْ مِنْ أَجْرِكُمْ مِنْ شَىْءٍ قَالُوا لاَ، قَالَ فَهْوَ فَضْلِي أُوتِيهِ مَنْ أَشَاءُ ‏"‏‏

অনুবাদ: হযরত সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (সালেমের পিতা আব্দুল্লাহ) আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, পূর্ব যুগের উম্মতের অবস্থানের তুলনায় (এ পৃথিবীতে) তোমাদের অবস্থান আসর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের সাথে তুলনীয়। ইয়াহূদীদেরকে তাওরাত দেয়া হয়েছিল। তারা দুপুর পর্যন্ত কাজ করেছে। কিন্তু দুপুর হলে তারা অপারগ হয়ে পড়লে তখন তাদেরকে এক এক কিরাত (একটি বিশেষ পরিমাপ) করে (পারিশ্রমিক) প্রদান করা হলো। এরপর  ইঞ্জিল অনুসারীদেরকে ইঞ্জিল দেয়া হলো। তারা (দুপুর থেকে) আসর পর্যন্ত কাজ করে অক্ষম হয়ে পড়লো। তাদেরকেও এক এক কিরাত করে পারিশ্রমিক প্রদান করা হলো। এরপর সর্বশেষে আমাদেরকে কোরআন দেয়া হয়েছে। আমরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাজ করেছি। এবং বিনিময়ে আমাদেরকে দুই দুই কিরাত করে পারিশ্রমিক দেয়া হয়েছে। এতে (আপত্তি জানিয়ে) পূর্বের দুটি কিতাবের অনুসারীগণ বললো, ‘হে আমাদের প্রভু! আপনি এদেরকে দুই দুই কিরাত করে, অথচ কাজের তুলনায় আমরা বেশী কাজ করেছি। জবাবে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাদেরকে বললেন, তোমাদের পারিশ্রমিক দেয়ার ব্যাপারে কি আমি কোনরূপ যুলুম করেছি? তারা সবাই বললো, ‘না'। তখন আল্লাহ বললেন, ‘এটি আমার মেহেরবানী, যাকে ইচ্ছা তাকে আমি দান করে থাকি।'
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য إِلَى غُرُوبِ الشَّمْسِ -এর সাথে। কারণ, এর দ্বারা বুঝা গেল যে, আসরের সময় সূর্যাস্ত পর্যন্ত, আর যে ব্যক্তি আসরের এক রাকাত পেল সূর্যাস্তের পূর্বে, তাহলে সে নামাজের ওয়াক্ত পেল, এবং তাকে ঐ নামাজ পূর্ণ করতে হবে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৯, ৩০২, ৪৯১, ৭৫১, ১১১২, ১১২৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَثَلُ الْمُسْلِمِينَ وَالْيَهُودِ وَالنَّصَارَى كَمَثَلِ رَجُلٍ اسْتَأْجَرَ قَوْمًا يَعْمَلُونَ لَهُ عَمَلاً إِلَى اللَّيْلِ، فَعَمِلُوا إِلَى نِصْفِ النَّهَارِ، فَقَالُوا لاَ حَاجَةَ لَنَا إِلَى أَجْرِكَ، فَاسْتَأْجَرَ آخَرِينَ فَقَالَ أَكْمِلُوا بَقِيَّةَ يَوْمِكُمْ، وَلَكُمُ الَّذِي شَرَطْتُ، فَعَمِلُوا حَتَّى إِذَا كَانَ حِينَ صَلاَةِ الْعَصْرِ قَالُوا لَكَ مَا عَمِلْنَا‏.‏ فَاسْتَأْجَرَ قَوْمًا فَعَمِلُوا بَقِيَّةَ يَوْمِهِمْ حَتَّى غَابَتِ الشَّمْسُ، وَاسْتَكْمَلُوا أَجْرَ الْفَرِيقَيْنِ ‏"‏‏.‏

অনুবাদ: হযরত আবু মূসা (রা.) আল্লাহর নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, মুসলিম, ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদেরকে এমন এক ব্যক্তির সাথে তুলনা করা যায় যে, একদল লোককে এই বলে কাজে নিয়োগ করা হলো, তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করবে। কিন্তু তারা দুপুর পর্যন্ত কাজ করার পর বললো, তোমার পারিশ্রমিকের আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। (এরপর তারা কাজ ছেড়ে চলে গেল) সুতরাং লোকটি আরেক দল লোককে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজে নিয়োগ করে বললো, দিনের অবশিষ্ট ভাগ পর্যন্ত কাজ করো, তোমাদের সাথে যে শর্ত করেছি তা অনুসারে তোমাদেরকে পারিশ্রমিক প্রদান করবো। তারা কাজ করতে থাকলো। কিন্তু আসরের নামাজের সময় হলে তারা বললো, (এ পর্যন্ত) আমরা যা কাজ করেছি তা আপনার জন্য রেখে গেলাম। সুতরাং লোকটি আরেক দল লোককে পুনরায় কাজে নিয়োগ করলো। তারা দিনের অবশিষ্ট সময়টুকু কাজ করলো অর্থাৎ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাজ করলো এবং আগের দুই দলের পারিশ্রমিকসহ দিনের পুরা পারিশ্রমিক নিয়ে গেল।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য হবে ইঙ্গিতার্থে, স্পষ্টভাবে নয়। এবং তা হবে হাদীসের মর্মার্থের সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৯, ৩০২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: হযরত শায়খুল হিন্দ (র.) বলেন- غرض البخاري منه اثبات وقت العصر الي غروب الشمس অর্থাৎ ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা প্রমাণ করা যে, সূর্যাস্ত পর্যন্ত আসরের সময় থাকে। অর্থাৎ যারা বলে যে, আসরের শেষ সময় হলো اصفرار شمس পর্যন্ত, এবং اصفرار شمس-কে আসরের সময়ের বাইরে মনে করে, তাদের মত খণ্ডন করে তিনি বলছেন আসরের শেষ সময় হলো সূর্যাস্ত পর্যন্ত- সূর্য হলুদ-বর্ণ হওয়া পর্যন্ত নয়।
শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.)ও কাছাকাছি এরকমই বলেছেন। তিনি বলেন- ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা প্রমাণ করা যে, কোনো ব্যক্তি যদি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের নামাজ এক রাকাত পড়ে নিল, এবং অবশিষ্ট রাকাতগুলি সূর্যাস্তের পরে পড়ল, তার নামাজ হয়ে যাবে। তা আর কাজা পড়ার প্রয়োজন নেই।
ব্যাখ্যা:এ বাবে ইমাম বুখারী তিনটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। প্রথম হাদীস হযরত আবু হুরায়রা হতে। যার শব্দ হলো- إِذَا أَدْرَكَ أَحَدُكُمْ سَجْدَةً
হাফিজ আসকালানী (র.) বলেন, ইমাম বুখারী শিরোনামে ادرك ركعة উল্লেখ করে হাদীস পাকের তাফসীর করে দিয়েছেন যে, سجدة দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রাকআত।
আল্লামা আইনী (র.)ও একই কথা বলেছেন- قلت المراد من السجدة الركعة সিজদা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রাকআত। তাছাড়া এ বুখারীরই ৮২ পৃষ্ঠার হাদীসে আবু হুরায়রা (রা.) হতে سجدة-র পরিবর্তে ركعة আছে।
সিজদা দ্বারা রাকআত উদ্দেশ্য নেওয়ার কারণ হলো সিজদার পূর্বে যেহেতু রাকআত অসম্পূর্ণ থাকে, তাই সিজদা বলে রাকআত বলে দেওয়া হয়েছে। আর রাকআত এ কারণেই বলা হয় যে, তা হলো একটি গুরুত্ব রুকন, যদি রুকু না পায় তাহলে রাকআত ফওত হয়ে যায়। এ কারণেই তাকে রাকআত বলা হয়।
প্রশ্ন: হাদীসে আসর এবং ফজর উভয়টির কথাই রয়েছে, কিন্তু শিরোনামে শুধুমাত্র আসরের কথা বলা হলো কেন?
উত্তর: আল্লামা আইনী বলেন- ইমাম বুখারী শিরোনামে একটির আলোচনাকে যথেষ্ট মনে করে والفجر-কে বিলুপ্ত করে দিয়েছেন।  
فَلْيُتِمَّ صَلاَتَهُ : অর্থাৎ - فليؤدها علي وجه التمام তথা সে যেন তার নামাজ পূর্ণ পড়ে। যদি হাদীসের প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করা হয় তাহলে দেখা যাবে যে, উদ্দেশ্য পরিষ্কার। যদি কোনো ব্যক্তি সিজদা পরিমাণ সময়ও সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের সময় পায় অথবা সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের নামাজের সময় পায়, তাহলে সে وجوب صلاة পেয়েছে, তাকে পূর্ণ নামাজ পড়তে হবে, তার উপর নামাজ ফরজ হয়ে গেছে।
এ হাদীসে রাকাতের শর্তও নেই; বরং সিজদার কথা রয়েছে। অর্থাৎ পূর্ণ রাকআত উদ্দেশ্য নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো নামাজের কোনো অংশ।
এ কারণেই ইমাম আবু হানিফা (র.) বলেন, কেউ যদি তাকবীরে তাহরীমা পরিমাণ সময়ও পায় তাহলে তার উপর ঐ নামাজ ফরজ হয়ে যাবে। এবং পূর্ণ নামাজ পড়তে হবে। উদাহরণতঃ   কোনো হায়েযগ্রস্ত মহিলা হায়েয হতে পবিত্র হল, বা নাবালক সাবালক হল অথবা অমুসলিম মুসলমান হল, তাহলে তার নামাজ ফরজ হয়ে যাবে। এবং সহীহ ওয়াক্তে ঐ নামাজ আদায় করতে হবে।
এ বক্তব্যের সারমর্ম হলো এই যে, হাদীস শরীফে ادراك দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ادراك وقت [ওয়াক্ত পাওয়া।] এবং তার قرينة হলো قبل ان تغرب الشمس ও قبل ان تطلع الشمس; যা দ্বারা স্পষ্ট বুঝা গেল যে, صلوة দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নামাজের ওয়াক্ত।  তাহলে আর কোনো এশকাল থাকবে না।
কিন্তু ইমামত্রয় বলেন, ادراك দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ادراك صلوة [নামাজ পাওয়া।] নামাজের সময় পাওয়া নয়; বরং নামাজ পড়া উদ্দেশ্য নেয়। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি আসরের এক রাকাত পড়ার পর সূর্য ডুবে গেল, তেমনিভাবে যদি কোনো ব্যক্তি ফজরের এক রাকাত পড়ার পর সূয উঠে গেল, তখন ইমামত্রয় বলেন উভয়ের হুকুম এক। এবং নামাজী অবশিষ্ট নামাজ পূর্ণ করে নিবে। যার করিনা হলো হাদীসের শব্দ فليتم صلوته  আবার কোনো রেওয়ায়েতে আছে فليضف আবার কোনো কোনো রেওয়ায়েতে আছে- فلم يفته العصر অর্থাৎ তার আসর ফওত হয়নি।
সর্বপ্রথম কথা হলো এ বিষয়টি মীমাংসা করা সহজ কাজ নয় যে, এ সকল বাক্যগুলি নবী করীম (সা.) ব্যবহার করেছেন। বরং সম্ভাবনা রয়েছে যে, রাবীগণ হতে روايت بالمعني হিসেবে বিভিন্ন হয়ে গেছে। আর হাদীসের মূল শব্দ হলো ঐটা যা বুখারীতে আছে। আর হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এরই হাদীস রয়েছে যে, নবী করীম (সা.) বলেছেন- من ادرك من الصبح ركعة قبل ان تطلع الشمس فقد ادرك الصبح ومن ادرك ركعة من العصر قبل ان تغرب الشمس فقد ادرك العصر
এরই সংলগ্ন আরেকটি হাদীসে আছে -من ادرك ركعة من الصلوة فقد ادرك الصلوة
ব্যাখ্যা হাদীস নং ৫৩৭:
إِنَّمَا بَقَاؤُكُمْ فِيمَا سَلَفَ قَبْلَكُمْ : আল্লামা আইনী ও আল্লামা কিরমানী বলেন- ظاهره ليس بمراد الخ অর্থাৎ যেহেতু في আসে ظرفية-এর জন্য, তাই হাদীসের বাহ্যিকতা হতে এ অর্থ বের হয় যে, উম্মতে মুহাম্মদিয়ার অবস্থান বিগত উম্মতের যামানায় হয়েছে- মূলতঃ বিষয়টি এমন নয়। বরং এর অর্থ হলো- انما معناه ان نسبتكم اليهم كنسبة وقت العصر الي تمام النهار
অর্থাৎ في টি الي  অর্থে হবে। এবং ইবারতে একটি মুযাফ উহ্য আছে। ইবারত হবে- انما بقاؤكم الي ماسلف الخ
উদ্দেশ্য এই হল যে, তোমাদের অবস্থানের নিসবত বিগত উম্মতের তুলনায় ঐ রকমই যা সারাদিনের তুলনায় আসরের সময় হতে মাগরিবের সময়টুকু খুবই কম।
এ হাদীস দ্বারা হানাফীদের মাযহাব অতি উত্তমরূপে প্রমাণিত হয় যে, আসরের সময় দুই মিছ্ল অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে হয়। কারণ, নবী করীম (সা.) পূর্ণ দিনকে তিনভাগে বণ্টন করেছেন। প্রথম অংশ ভোর হতে দুপুর পর্যন্ত, দ্বিতীয় অংশ দুপুর থেকে আসর পর্যন্ত, আর তৃতীয় অংশ আসর হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
ইহুদিরা দুপুর পর্যন্ত কাজ করেছে, আর খ্রিস্টানরা কাজ করেছে দুপুর হতে আসর পর্যন্ত। আর তারা উভয়েই এ অভিযোগ করেছে যে- نحن اكثر عملا আমরা এ উম্মতের তুলনায় অধিক সময় কাজ করেছি। আর এ দাবী তখনই সঠিক হতে পারে যখন জোহর হতে আসর পর্যন্ত সময় অধিক মানা হবে যে, জোহরের সময় দুই মিছল পর্যন্ত। আর দুই মিছলের পর হতে আসরের সময় শুরু। নতুবা কতক মওসুমে আসরের সময় জোহর হতে অধিক হয়ে যায়, অথবা কমপক্ষে সমান হয়ে যায়।
التَّوْرَاة و الاِنْجِيل : এ দুটি অনারবী শব্দ। কেননা, এক কেরাত অর্থাৎ হাসান বসরীর কেরাতে আছে اَنْجِيل (হামযায় যবর) যা এটি অনারব হওয়ার স্পষ্ট দলীল। কেননা اَفْعِيل-এর ওজনে আরবি ভাষায় কোনো শব্দ নেই। সুতরাং توراة-কে وري থেকে تَفْعَلَة এবং انجيل-কে اِفْعِيل-এর ওজনে نجل হতে মুশতাক মানাটা সহীহ হবেনা।
ব্যাখ্যা হাদীস নং ৫৩৮:
مَثَلُ الْمُسْلِمِينَ وَالْيَهُودِ وَالنَّصَارَى : এ হাদীস এবং পূর্বের ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত এ হাদীসদুটিতে নবী করীম (সা.) এ উম্মতের একটি উপমা বর্ণনা করেছেন কাল বা যুগের কম-বেশী হওয়ার দিক থেকে। অতঃপর তিনি বলেন, এ উম্মতের সময়কাল কম হওয়াসত্তেও এ উম্মতকে আল্লাহ তা‘আলা পূর্ববর্তী উম্মতদের হতে দ্বিগুণ সওয়াব দান করেছেন। কারণ, পূর্ববর্তী উম্মতদেরকে এক ক্যারেট দেওয়া হয়েছে, আর এ উম্মতকে দেওয়া হয়েছে দুই ক্যারেট। وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء
প্রশ্ন: এখানে একটি প্রশ্ন জাগে যে, হাদীসের ভাষ্য দ্বারা ইহুদি-নাসাদের তুলনায় মুসলিমজাতির অবস্থানের কাল কম বুঝে আসছে। অথচ বাস্তবতা হলো এর বিপরীত। কারণ, ইহুদিদের সময়কাল বেশি থেকে বেশী হলে দুই হাজার বছর। সেক্ষেত্রে তো এখন কোনো প্রশ্ন নেই, তবে নাসারাদের সময়কাল বেশী থেকে বেশী ছয়শত বছর। অথচ মুসলমানদের সময়কাল চৌদ্দশত বছর হয়ে গেল, কিয়ামত পর্যন্ত আরো কত কাল বাকি আছে, তা আল্লাহ পাকই ভালো জানেন। আবার ইহুদি-খ্রিস্টানদের পক্ষ হতে রেওয়ায়েতে এটাও বলা হয়েছে যে, আমরা অধিক কাজ করেছি। তাই মুসলমানদের অবস্থানকাল কম হওয়া এবং ইহুদি-খ্রিস্টনদের অবস্থানকাল অধিক হওয়া প্রশ্নের কারণ হয়ে দাড়িয়েছেন।
উত্তর: এখানে উম্মতের সাথে উম্মতের তুলনা উদ্দেশ্য নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো উম্মতের ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির তুলনা। উম্মতে মুহাম্মাদিয়ার ব্যক্তির বয়সের গড় হাদীসের ভাষ্যমতে ৬০ - ৭০ এর মাঝামাঝি বর্ণিত আছে। যেমন হাদীসে আছে- قال رسول الله (ص৯) عمر امتي من ستين سنةً الي سبعين  অর্থাৎ নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন আমার উম্মতের বয়স ষাট থেকে সত্তর পর্যন্ত। তাছাড়া আজকালকার রোগ-ব্যাধিও তখন ছিল না। জনশ্রুতি আছে যে, ফেরাউনের ৫০০ বছর পর্যন্ত মাথাব্যাথা পর্যন্ত হয়নি।
সুতরাং আমাদের জন্য পূর্ববর্তী উম্মতের মোকাবেলায় বয়স কম, এবং শক্তি-সামর্থ্যও কম। তাই আল্লাহ তা‘াআলা তাঁর হাবীবের অসিলায় আমাদের প্রতিটি নেকীর বদলা দশগুণ করে দিয়েছেন। পূর্ববর্তী উম্মতের লোকেরা একটি নেকী করলে একটি ছওয়াব পেত, আর আমরা একটি নেকী করলে কমপক্ষে দশটি নেকী পাই। ব্যক্তির তুলনা ব্যক্তির সাথে হয়েছে, তার প্রমাণ হলো এখানে قيراط শব্দকে তাকরারের সাথে قيراطا قيراطا  এবং قيراطين قيراطين বলা হয়েছে। যদি উম্মতের সাথে উম্মতের পর্যালোচনা হতো তাহলে قيراط একবার উল্লেখ করাই যথেষ্ট ছিল। তাকরারের প্রয়োজন ছিল না। অর্থাৎ সমগ্র উম্মতে এক কিরাত দেওয়া হবে না; বরং পূর্ববর্তী উম্মতের প্রত্যেকেই একএক কিরাত করে পাবে। তেমনিভাবে উম্মতে মুহাম্মাদিয়ার প্রত্যেকে দুই দুই কিরাত করে পাবে।
দ্বিতীয় দলীল হলো এক রেওয়ায়েতে আছে ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির তুলনার কথাটি স্পষ্ট রয়েছে। যেমন ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আমরা আসরের পর রাসূল (সা.)-এর খেদমতে হাজির হলাম। তিনি বললেন- ما اعماركم في اعمار من مضي الا كما بقي من النهار فيما مضي منه বিগত উম্মতের বয়সের তুলনায় তোমাদের বয়স এরকমই যেরকম অতিক্রান্ত দিনের তুলনায় দিনের অবশিষ্টাংশ।   

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.